বছরের বাকি সময় যাদের খবর খুব একটা কেউ রাখেন না, কোরবানির ঈদের দিনটিতেই তাদের কদর হয়ে ওঠে আকাশচুম্বী। তারা হলেন ‘একদিনের কসাই’ বা মৌসুমি কারিগর।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের নিয়ে তৈরি মিমস বা মজার ভিডিওগুলো যেমন ভাইরাল হয়, তেমনি বাস্তব জীবনেও রাজধানীতে তাদের চাহিদার কোনো কমতি নেই। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার দক্ষ কারিগররা নীলফামারী থেকে বিমানে চড়েও ঢাকায় ছুটে আসছেন।
রাজধানীর মিরপুর ও তালতলা এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়া, যশোর ও নড়াইলের মতো জেলাগুলো থেকে মৌসুমি কসাইদের বড় বড় দল ঢাকায় এসেছেন। এদের মধ্যে কেউ পেশাদার কসাই, আবার কেউ স্রেফ বাড়তি আয়ের আশায় এই মৌসুমি কাজে যুক্ত হয়েছেন।
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা থেকে আসা মোহাম্মদ আব্দুস সামাদের ১২ জনের দলটি গত ১০ বছর ধরে ঈদের এই সময়ে ঢাকায় কাজ করছেন। সামাদ জানান, ঈদের নামাজের পর থেকেই তাদের দম ফেলার ফুসরত নেই। গরুভেদে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা কিংবা ‘হাজারে ১৫০ টাকা’ চুক্তিতে তারা কাজ করছেন। দলের চারজন মূল কারিগর সারাদিনের কঠোর পরিশ্রম শেষে ভালো আয়ের মুখ দেখছেন, যা তাদের পরিবারের জন্য বাড়তি স্বস্তি বয়ে আনছে।
অন্যদিকে, প্রথমবারের মতো ঢাকায় কাজ করতে আসা যশোরের মোহাম্মদ মজিবরের দলের অভিজ্ঞতা কিছুটা ভিন্ন। ঢাকার বাজারের দরদাম সম্পর্কে পুরোপুরি ধারণা না থাকায় তারা তুলনামূলক কম চুক্তিতে কাজ শুরু করলেও, এই বাড়তি আয় নিয়ে তারা সন্তুষ্ট। মজিবর বলেন, “বাড়িতে অলস বসে থাকার চেয়ে কাজ করা অনেক ভালো।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া নানা রসাত্মক গল্পের আড়ালে এই মৌসুমি কসাইদের কঠোর পরিশ্রম ও পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর লড়াইটা আসলে বেশ প্রশংসনীয়। রাজধানী ঢাকার বাসিন্দাদের কোরবানির ঈদকে নির্বিঘ্ন ও সহজ করতে এই মানুষগুলোর ভূমিকা প্রতি বছরই অনন্য হয়ে উঠছে।
Leave a Reply